প্রচ্ছদমুক্তগদ্য

সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি- এনামূল হক পলাশ- মতামত

এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন একটি সাংস্কৃতিক ঐক্য। এই ঐক্য আমাদেরকেই নির্মাণ করতে হবে। এটি অবশ্যই নির্মিত হতে হবে জনগণের সংস্কৃতি দ্বারা। চর্যাপদ, লোকসাহিত্য, সুফিবাদ, প্রেমের আখ্যান, বৈষ্ণববাদ, ময়মনসিংহ গীতিকা, লালন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে উচ্চারিত জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার, ২০২৪ সালের গ্রাফিতির ভাষা নিয়ে নির্মিত হবে জনগণের সংস্কৃতি। এই বিষয়গুলো হবে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐক্যের ভিত্তি। সাংস্কৃতিক ঐক্য ছাড়া জাতি গঠন সম্ভব নয়। সাংস্কৃতিক ঐক্যের ভেতর দিয়ে যে জাতিবাদ গড়ে উঠবে তার ভেতর দিয়ে নির্ধারণ হবে আগামীর সংস্কৃতি ও রাজনীতির গতিপ্রকৃতি।

সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি নির্মাণ করতে হলে প্রথমে এমন একটি সামাজিক চেতনা তৈরি করতে যেখানে কোন বিভাজন থাকবে না। সেজন্য আমাদেরকে ঐক্যের জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।   এই চেতনা হতে হবে জনগণের সর্বজনীন। সর্বজনীন সামাজিক চেতনাকে প্রবাহিত করতে হবে অপসংস্কৃতি প্রতিরোধ চেতনায়। এই বিষয়গুলো একটা রাজনৈতিক মূল্যবোধে পরিণত হবে। এইসব রূপান্তরের মূল্যবোধের মাধ্যমে একটি সাংস্কৃতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে যাকে আমরা আখ্যায়িত করব জনগণের সংস্কৃতি।

সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি নির্মাণ করতে হলে কিছু বিষয় নিয়ে আমাদেরকে নতুন করে ভাবতে হবে।

আমাদের সংস্কৃতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা বলে একটি শব্দ প্রায়শই উচ্চারিত হয়। ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism) একটি বিস্তৃত ধারণা এবং এর বিভিন্ন সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা ধারণার উৎপত্তি ঊনবিংশ শতাব্দীতে। ব্রিটিশ লেখক জর্জ জ্যাকব হলিওকের হাত ধরে এই ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি রাষ্ট্র ও সমাজকে ধর্ম থেকে আলাদা করে ফেলেন।

রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে ধর্মকে আলাদা করে ফেলা সহজ কাজ নয়। কারণ আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্রে ধর্ম বিদ্যমান আছে। এমনকি এই সমাজে ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ পাওয়াটা খুবই কঠিন। প্রতিটি মানুষ স্ব স্ব ধর্মের প্রতি অনুগত ও শ্রদ্ধাশীল। ফলে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি নির্মাণে এই শব্দটি সমস্যা তৈরি করে আসছে। তাছাড়া এই ধারণাটি পাশ্চাত্য ধারণা। এই ধারণা বেংগল বেসিন থেকে উদ্ভূত ধারণা নয়।

সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে এখন ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটির পরিবর্তে আমাদেরকে ভাবতে হবে ধর্মীয় সাম্য নিয়ে। আগামী দিনে ধর্মীয় সাম্যই হবে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা এবং জনগণের সাংস্কৃতিক ঐক্যের একটি ভিত্তি।

মৌলবাদ (Fundamentalism) শব্দটি সাধারণত ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং কট্টরপন্থার প্রতি আনুগত্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি বিতর্কিত শব্দ যা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। সাধারণভাবে, মৌলবাদ বলতে বোঝায় ধর্মীয় গ্রন্থ বা আদর্শের আক্ষরিক ও কঠোর ব্যাখ্যা এবং এর ভিত্তিতে জীবনযাপন করার প্রবণতা। এটি প্রায়শই প্রচলিত আধুনিকতাবাদী বা উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করে। “Fundamentalism” মূলত খ্রিস্টানদের মধ্যে সৃষ্ট একটি আন্দোলন যা বাইবেলের আক্ষরিক ব্যাখ্যা এবং ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের উপর জোর দেয়। পরবর্তীতে এই শব্দটি অন্যান্য ধর্ম, যেমন ইসলাম, ইহুদি এবং অন্যান্য ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলনেও ব্যবহৃত হতে শুরু করে।

মৌলবাদ একটি জটিল ধারণা এবং এর বিভিন্ন দিক রয়েছে। এটি একটি বিতর্কিত বিষয় এবং এর বিভিন্ন সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা রয়েছে। কখনো কখনো মৌলবাদে ভালো অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই শব্দটা ভাষাগত দিকে একটি বিতর্কিত শব্দ।

মৌলবাদী শব্দটা আর ব্যবহার করছি না। আমরা যাদেরকে মৌলবাদী হিসাবে চিহ্নিত করি তারা আসলে মৌলবাদী না। যারা নিজের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য চরমপন্থা অবলম্বন করে তাদেরকে বড়জোর অসহনশীলতাবাদী বলা যেতে পারে। তাদেরকে কখনোই মৌলবাদী বলা ঠিক না। কোনো ধর্ম বা তত্ত্বের মূলে অমানবিক আচরণ করার বিধান নেই।

সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে এখন মৌলবাদ শব্দটির পরিবর্তে আমাদেরকে ভাবতে হবে ধর্মীয় উগ্রবাদ বা অসহনশীলতাবাদ নিয়ে। আগামী দিনে ধর্মীয় উগ্রবাদ বা অসহনশীলতাবাদ প্রতিরোধ করার চেতনা হতে পারে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। ধর্মীয় উগ্রবাদ ঠেকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা জারি রাখা জনগণের সাংস্কৃতিক ঐক্যের একটি ভিত্তি হতে পারে।

অসাম্প্রদায়িকতা (Cosmopolitanism) মানে হল এমন একটি আদর্শ যেখানে সকল মানুষ পারস্পরিক নৈতিকতা ভাগ করে একটি একক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি একটি মতবাদ যা কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা ধর্মের দ্বারা সীমাবদ্ধ না থেকে সবার প্রতি সহনশীল এবং সকলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। কিন্তু এই বয়ান বা শব্দের মধ্যে ভাষাগত ত্রুটি রয়েছে। এই শব্দটি নিয়েও আমাদেরকে নতুন করে ভাবতে হবে। বাস্তবে আমাদের সমাজে অসাম্প্রদায়িক ব্যাক্তি নেই। সবাই নিজ নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট এবং অনুগত। সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব যতদিন থাকবে ততদিন সাম্প্রদায়িকতাও বিদ্যমান থাকবে। তাকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে এখন সাম্প্রদায়িকতা শব্দটির পরিবর্তে আমাদেরকে ভাবতে হবে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী অবস্থান নিয়ে। আগামী দিনে অসাম্প্রদায়িকতা বিরোধী মূল্যবোধ হতে পারে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী অবস্থান জনগণের সাংস্কৃতিক ঐক্যের আরও একটি ভিত্তি হতে পারে।

ইন্টেলেকচুয়াল (Intellectual) শব্দের বাংলা অর্থ করা হয়েছে বুদ্ধিজীবী। এটি সাধারণত সেই ব্যক্তিকে বোঝায় যিনি জ্ঞান, বুদ্ধি এবং যুক্তিনির্ভর কাজে আগ্রহী এবং সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকলাপের মাধ্যমে অবদান রাখেন। কিন্তু বাংলা তরজমায় স্বাভাবিক ভাবে আমরা বুঝতে পারি, যিনি বুদ্ধির দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করেন যিনি তিনিই বুদ্ধিজীবী। সেই হিসেবে গরুর দালালিও এক ধরনের বুদ্ধিজীবীতা। কিন্তু এর প্রায়োগিক দিক ভিন্ন। বুদ্ধিজীবী হলেন তারা, যারা সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান এবং বিশ্লেষণ ক্ষমতা রাখেন এবং সমাজের অগ্রগতি ও উন্নতির জন্য কাজ করেন। সাধারণভাবে, বুদ্ধিজীবী বলতে সমাজের সেই অংশকে বোঝায় যারা তাদের মেধা, বুদ্ধি এবং যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখান এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেন।

এই বিভ্রান্তি দূর করতে অভিধানে এই শব্দের ভাল বাংলা প্রতিশব্দ বের করা জরুরি। এই শব্দটা নানা কারণে বিতর্কিত হয়েছে এবং শব্দটা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে এখন আমাদেরকে ভাবতে হবে বুদ্ধিজীবী শব্দের ভালো বাংলা প্রতিশব্দ নিয়ে। আমরা তাদেরকে মনীষা, চিন্তক, ভাবুক, গুরু ইত্যাদি নামে অভিহিত করতে পারি।

বহুত্ববাদ হলো এমন একটি ধারণা যা সমাজে বিভিন্নতা এবং ভিন্ন মতের সহাবস্থানকে সমর্থন করে। এটি একটি রাজনৈতিক, সামাজিক, এবং দার্শনিক ধারণা, যা বিভিন্ন বিশ্বাস, সংস্কৃতি, এবং জীবনধারার মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে উৎসাহিত করে। বহুত্ববাদের ধারণাটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আলোচিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ইংল্যান্ডে বহুত্ববাদের উপর জোর দিয়েছিলেন কিছু লেখক। এইসব লেখকদের মধ্যে ফ্রেডেরিক মেইটল্যান্ড, স্যামুয়েল জি. হবসন, হ্যারল্ড লাস্কি, রিচার্ড এইচ. টয়নি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও, রবার্ট এ. ডাহল, ডেভিড ট্রুম্যান এবং সেমুর মার্টিন লিপসেট প্রমুখ রাজনৈতিক তাত্ত্বিক বহুত্ববাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।

বহুত্ববাদের বিপরীত শব্দ হচ্ছে একত্ববাদ। ধর্মীয়ভাবে এটি একটি পরিত্যাজ্য শব্দ। বহুত্ববাদ শব্দটা আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান ধর্মের মূল চিন্তার সাথে সাংঘর্ষিক।

সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে বহুত্ববাদ শব্দটার বিকল্প শব্দ বের করা দরকার যাতে বহু মত ও পথের ঐক্য হিসেবে বিষয়টি সামনে আসে। বিকল্প হিসেবে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য এবং বহুসংস্কৃতিবাদ হতে পারে আমাদের মূল দর্শন।

চেতনা শব্দের অর্থ হল চৈতন্য, জ্ঞান, বা হুঁশ। এটি মনের একটি অবস্থা যা আত্মসচেতনতা, অনুভূতি এবং পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা নির্দেশ করে। সাংস্কৃতিক চেতনা বলতে কোনো সমাজের সদস্যদের মধ্যে সংস্কৃতি (যেমন: বিশ্বাস, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, ঐতিহ্য, ভাষা, শিল্পকলা, ইত্যাদি) সম্পর্কে যে সচেতনতা বা উপলব্ধি গড়ে ওঠে, তাকে বোঝায়। এটি একটি সমাজের সদস্যদের তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য, তাৎপর্য এবং প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দেয়।

বিভিন্ন কারণে চেতনা শব্দটি বিতর্কিত হয়েছে। এর ভুল ব্যাখ্যা এবং প্রয়োগের জন্য অধিকাংশ মানুষের মনে এটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে আমাদেরকে বিকল্প শব্দ ব্যবহার করতে হবে। বিকল্প শব্দ হিসেবে আমরা মূল্যবোধকে নিতে পারি। যেমন আমরা ইসলামি চেতনার পরিবর্তে ইসলামি মূল্যবোধ, সনাতনী চেতনার পরিবর্তে সনাতনী মূল্যবোধ, স্বাধীনতার চেতনার পরিবর্তে স্বাধীনতার মূল্যবোধ শব্দগুলো ব্যবহার করতে পারি।

সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে এখানে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরম্পরাভাবে বিষয়গুলোকে আমরা আমাদের সংস্কৃতির জন্য নিতে পারি।

বাংলা ভাষায় রচিত চর্যাপদ লোককবিতার আদিমতম লিখিত নিদর্শন। এটি ছিল বৌদ্ধ সহজিয়া সন্ন্যাসীদের রচিত শ্রেণী বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাহিত্যিক প্রতিবাদ এবং অবুঝ ও গোঁড়া সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক সাহসী বক্তব্য। চর্যাপদকে আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতির প্রথম ধাপ হিসেবে নিতে পারি। আমাদের সংস্কৃতি ও চৈতন্যে চর্যাপদের সাহিত্যিক ধারা  মূলত ধর্মীয় সাম্যের সাথে সম্পর্কিত এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকে মুক্ত। অথচ এটি ধর্মীয় চেতনা থেকে উদ্ভুত মানবিক বয়ানের এক বিশাল সমাহার। এটিকে গ্রহণ করে আমাদেরকে সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রথম ভিত্তি তৈরি করা যেতে পারে।

লোকসাহিত্য জনগণের সংস্কৃতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সাধারণত সমাজের মানুষের মৌখিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। এটি সহজ সরল ভাষায় রচিত হয় এবং এতে সমাজের সাধারণ মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, এবং বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। লোকসাহিত্য সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতির অন্যতম ভিত্তি। এটিকে আমাদের গ্রহণ করতে হবে সার্বজনীনতার প্রশ্নে। এটিকে গ্রহণ করতে আমরা সাচ্ছন্দ্য বোধ করি এবং এর সাথে আমরা দ্বিমত করি না। এর মধ্যে জনসাধারণের সংস্কৃতি হিসেবে ধরা দেয় মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য। এগুলো একদিকে শাসক শ্রেণির হিন্দু পুরাণকেন্দ্রিক সংস্কৃতির বিকল্প তৈরি করেছিল, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ, কৃষক, নারী ও দলিতদের কাহিনীকে সাহিত্যের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল। একই সময়ে রচিত প্রণয় উপাখ্যানগুলো মুসলিম জনগণের আত্মপরিচয় গঠনের পাশাপাশি প্রেমের মাধ্যমে সামাজিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও একধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এই সময়ের রোমান্টিক প্রেমের উপাখ্যান সমূহ প্রেম, বিচ্ছেদ, নারীর অবস্থান নির্ধারণ করে। এর সার্বজনীনতা সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতির অংশ।

সুফিবাদ হল ইসলামের একটি আধ্যাত্মিক দিক, যা আল্লাহর সাথে একাত্মতা লাভের জন্য আত্মার পরিশুদ্ধির উপর জোর দেয়। সুফিবাদের ভেতরের মূল উপাদান ভেতর-ভিত্তিক ঐক্য ও আল্লাহর প্রেম। এটি নিজেকে জানার এক বিজ্ঞান। বাংলাদেশে সুফিবাদের আগমন ঘটে মূলত ১২শ শতকে, যখন মুসলিম বিজেতা ও সুফি দরবেশরা এখানে ইসলাম প্রচার করতে শুরু করেন। এই সময়ে, তুর্কি ও মধ্য এশিয়ার সুফি শিক্ষক ও যোদ্ধারা এই অঞ্চলে ইসলাম ও সুফিবাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই সুফি দরবেশরা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইসলাম ও সুফিবাদের শিক্ষা প্রচার করেন। তাদের উদার ও শান্তিপূর্ণ আচরণের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের গ্রহণ করে। এদেশের দলিত সম্প্রদায় আত্মপরিচয়ের সন্ধানে সুফিবাদকে গ্রহণ করেছিলো। সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতিতে সুফিবাদের প্রভাব এখনো বিদ্যমান।

চৈতন্য মহাপ্রভু (১৪৮৬ খ্রিঃ – ১৫৩৪ খ্রিঃ) ছিলেন বহু লোকপ্রিয় বৈষ্ণব সন্ন্যাসী ও ধর্মগুরু এবং ষোড়শ শতাব্দীর বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক। তিনি ছিলেন ভক্তিযোগ ভাগবত দর্শনের বিশিষ্ট প্রবক্তা ও প্রচারক। জাতিবর্ণ নির্বিশেষে ব্রাহ্মণ হতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পর্য্যন্ত সবার কাছে তিনি তার মহামন্ত্র বিতরণ করেন। তার দর্শনের মূল উপাদান হচ্ছে, ভক্তি ও সমর্পণভিত্তিক রূপান্তর। সেই সময়টাতে মুসলিম সুফি দর্শনের প্রভাবাধীন বৈষ্ণব ধর্মমতের নবায়নের মাধ্যমে চৈতন্য প্রবর্তিত কীর্তনসংস্কৃতি হয়ে উঠেছিল হিন্দু সমাজের ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে একধরনের প্রতিরোধের সংস্কৃতি। এটিকে সুফি দর্শনের প্রভাবাধীন বলা হয়েছে কারণ চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মের বহু পূর্ব থেকেই সুফিরা এদেশে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। ক্রমে ক্রমে এটি হয়ে উঠে  জনগণের সংস্কৃতির অংশ যাকে আমরা সাংস্কৃতিক ঐক্যের অংশ হিসেবে নিতে পারি।

মৈমনসিংহ-গীতিকা একটি সংকলনগ্রন্থ যাতে তৎকালীন অবিভক্ত বঙ্গের পূর্ব-ময়মনসিংহ (বর্তমান নেত্রকোণা) অঞ্চলে প্রচলিত দশটি বাংলা পালাগান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রথম খণ্ডের দশটি পালার রচয়িতা ভিন্ন ভিন্ন হলেও এর সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে। এই পালাগুলো প্রাচীন কাল থেকে মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে আসছে। ময়মনসিংহ গীতিকার মূল স্পিরিট হচ্ছে এটি সাধারণ মানুষকে সাহিত্য সংস্কৃতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল। এর উপাখ্যান গুলোতে প্রচারিত হয়েছে লোকজ জীবনের সাহস ও বেদনা। মৈমনসিংহ-গীতিকা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতির একটি আবশ্যিক অংশ।

লালন শাহ (১৭৭৪ খ্রিঃ – ১৮৯০ খ্রিঃ) ছিলেন একজন বাঙালি ফকির, সাধক, বাউল কবি, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। তিনি অসংখ্য গানের রচয়িতা, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। বাউল গানের অগ্রদূত হিসেবেও তিনি পরিচিত।  লালন শাহের দর্শন ছিল মানবতাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী এবং আত্ম-আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে।  তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের ভেদাভেদ দূর করে এক অভিন্ন মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তাঁর গানে, মানবতাবাদী দর্শন, সামাজিক সংস্কার এবং আধ্যাত্মিকতার গভীরতা প্রকাশ পায়। সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতির জন্য আমরা লালন দর্শনের মূল উপাদান জাত-পাতহীন ও ধর্মভেদহীন আলাপকে সামনে আনতে পারি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ খ্রিঃ – ১৯৪১ খ্রিঃ) ছিলেন বিশ শতকের একজন বিখ্যাত বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, এবং দার্শনিক। তিনি বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতের বিকাশে অসামান্য অবদান রেখেছেন। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি বিকাশের জন্য আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট থেকে মানবতাবাদ, আত্মিক উন্নয়ন ও সর্বজনীন সংস্কৃতির ধারণা পেতে পারি।

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯ খ্রিঃ – ১৯৭৬ খ্রিঃ) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের এক অন্যতম প্রভাবশালী কবি, লেখক, এবং সঙ্গীতজ্ঞ। তাকে “বিদ্রোহী কবি” বলা হয়। তিনি পরিচিত ছিলেন তার বিপ্লবী এবং মানবতাবাদী কাজের জন্য। নজরুল তার স্বল্প সময়ের সাহিত্যিক জীবনে সাহিত্য, সঙ্গীত, এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। কাজী নজরুল ইসলাম এর সাহিত্যক মূল উপাদান হচ্ছে বিদ্রোহী চেতনা, সাম্যবাদ ও ধর্মীয় সাম্যের মিলন।

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬ খ্রিঃ – ১৯৪৭ খ্রিঃ) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি। মাত্র একুশ বৎসর বয়সে এই প্রতিভাধর কবির দেহাবসান ঘটলেও সামান্য কয়েকবছরে অত্যাশ্চর্য কবিত্ব শক্তির পরিচয় দিয়ে অশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি। সুকান্ত ভট্টাচার্য্য এর সাহিত্যিক মূল উপাদান হচ্ছে শ্রেণী সংগ্রাম এবং বিপ্লবী চেতনা। এটিকে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতিতে গ্রহণ করা যেতে পারে।

বাংলা ভূখণ্ডে কওমি ধারার প্রথম মাদ্রাসা হলো হাটহাজারী মাদ্রাসা, যার আনুষ্ঠানিক নাম আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম। এটি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবস্থিত। এই মাদ্রাসাটি ১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৯০১ সালে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয়। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো ওই অঞ্চলে তৎকালীন মুসলিম সমাজকে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা ও ইসলামি শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রতিকূল অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে। সেখান থেকে সারা বাংলাদেশে একটি সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে। এদের মূল ভিত্তি হচ্ছে একত্ববাদে আসীন হয়ে কুসংস্কার ও শিরক থেকে মুক্ত থাকা। এখান থেকে কুরআন ভিত্তিক মূল্যবোধ এবং কুসংস্কার থেকে মুক্ত থাকার শিক্ষাকে আমরা সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতির উপাদান হিসেবে নিতে পারি। যতক্ষণ তারা কুরআন এবং একত্ববাদকে আঁকড়ে ধরে ধর্মীয় উগ্রতা পরিহার করবেন ততক্ষণ তারা জনগণের সংস্কৃতির অংশ হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশে সবচেয়ে অনবদমিত এবং শোষিত অংশ হচ্ছে কওমি ধারার সংস্কৃতি। এখানে প্রশ্নটা শাসন আর শোষিতের। মানবিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ধর্মীয় উগ্রতা পরিহার করে এদেরকে সংগে নিয়েই অগ্রসর করতে হবে। সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এদের পরিচয় হচ্ছে মজলুম। তাদেরকে অস্বীকারের মাধ্যমে আমরা একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে অস্বীকার করতে চেষ্টা করি। তাদেরকে স্বীকার করেই আমাদেরকে  সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

১৯৭১ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত একটি বিপ্লব ও সশস্ত্র সংগ্রামকে স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ বলা হয়। পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি জাতীবাদের উত্থান ও স্বাধিকার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবং বাঙালি গণহত্যার প্রেক্ষিতে এই জনযুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধের ফলে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে উচ্চারিত জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই আমাদের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জনগণের সংস্কৃতির একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান, জুলাই বিপ্লব বা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অথবা ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থান বা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বলতে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০২৪ ও অসহযোগ আন্দোলন ২০২৪-এর সমন্বিত আন্দোলনকে বোঝানো হয়। ২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের জারিকৃত পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়, এই আন্দোলনে তৎকালীন শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন কর্তৃত্ববাদী সরকার দমন-পীড়ন শুরু করলে এটি অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়। এই গণঅভ্যুত্থানের কারণে ৫ই আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পলায়ন করে। এই ঘটনায় তার পেটোয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পার্লামেন্টের সকল সংসদ সদস্য, জাতীয় মসজিদের খতিব সহ তার অনুসারীরা একযোগে পলায়ন করে বা আত্মগোপনে চলে যায়।  এই বিরল ঘটনায় বাংলাদেশ সাংবিধানিক সংকটে পড়ে এবং এর তিন দিন পরে ৮ই আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্ররা বিভিন্ন ব্যঞ্জনাময় ভাষায় দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি লিখেছে। এর মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক নতুন সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ আমরা রপ্ত করেছি। ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানে দেয়ালে দেয়ালে লিখিত গ্রাফিতির ভাষা যেন নব প্রজন্মের এক চর্যাপদ। এটি এখন হয়ে গেছে কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে জনগণের সংস্কৃতির অংশ।

আলোচনার প্রতিটি বিষয় বা সৃষ্টির মূল উপাদানগুলোকে গ্রহণ করে আমাদেরকে সাংস্কৃতিক ঐক্যের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

ইতিহাসের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি আমাদেরকে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের দিকে অগ্রসর হতে  নির্দেশ দিচ্ছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে বহু সম্প্রদায়ের অবদান রয়েছে। এটি বিভিন্ন সংকর উপাদানে সমৃদ্ধ, যার শুরু হয়েছিল বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মাধ্যমে। তারপর এটিকে নির্মাণ করেছে বহিরাগত মুসলিম সম্প্রদায়। আমরা এটিকে হিন্দুত্ববাদের সংস্কৃতি মনে করে ভুল করি। ব্রাহ্মণ্যবাদের বিপরীতে বাঙালি সংস্কৃতির মূল কাঠামো নির্মাণ করেছেন মধ্যযুগের মুসলমানরা। তারাই প্রথমে ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের আত্মপরিচয় গঠনের জন্য নিয়ে এসেছিল সুফিবাদ এবং প্রেমের আখ্যান সমুহ। তারপর থেকে এটি ধারাবাহিক চলমান থেকে বহু সংস্কৃতির মিলনে গড়ে উঠেছে। সেজন্য আমাদেরকে ঐক্যের জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। চর্যাপদ, লোকসাহিত্য, সুফিবাদ, প্রেমের আখ্যান, বৈষ্ণববাদ, ময়মনসিংহ গীতিকা, লালন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, কওমি ধারা, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে উচ্চারিত জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার, ২০২৪ সালের গ্রাফিতির ভাষা নিয়ে নির্মিত হবে জনগণের সংস্কৃতি। এই বিষয়গুলো সব জনগণের সর্বজনীন। এই বিষয়গুলো ডিল করার মাধ্যমে আমরা অবশ্যই সাংস্কৃতিক ঐক্য জাগ্রত করে জনগণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করব। জনগণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক বিপ্লব। তার আগে আঞ্চলিক সংস্কৃতির উপর কেন্দ্রীয় আগ্রাসন থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ঐক্যই হবে আমাদের ভবিষ্যৎ আত্মপরিচয়।

 

লেখক: কবি, ভাবুক ও সুফি জ্ঞানী।