পদাবলিপ্রচ্ছদ

একগুচ্ছ অনূদিত কবিতা- টিটো মোস্তাফিজ

আমি দুনিয়ার তাবৎ লোককে দেখি

আমি দুনিয়ার তাবৎ লোককে দেখি
ধনসম্পত্তির প্রতি কামনায় তারা
তাদের গোটা জীবনটা ছুঁড়ে ফেলে।
কখনো তাদের বাসনার তৃপ্তি হয় না।
আরও গভীর হতাশায় ডুবে যায়,
আর নিজেদের অত্যাচার করতে থাকে।
যদি কাঙ্ক্ষিত জিনিস পেয়েই যায়
কতদিনই বা তা ভোগ করতে পারবে?
কল্পিত একটি স্বর্গ সুখ পাবার জন্য
দশটি নরক যন্ত্রণা ভোগ করে তারা।
নিজেদেরকে পেষনের যাঁতাকলে
আরও শক্ত করে আটকিয়ে রাখে।
এই লোকগুলো মুখপোড়া বানরের মতো
চাঁদ ধরতে পাগলের মতো পানিতে নামে
তারপর ঘূর্ণিস্রোতে খাবি খেতে থাকে।
আর আমি, সেখানে সারারাত টোকা দেই
অথচ অশ্রু স্রোতে বাঁধ দিতে পারি না।

মূল : তাইগু রাইয়োকান

আফটারম্যাথ

দুর্যোগের চুম্বকের আকর্ষনে বাধ্য হয়ে
তারা ঘুরঘুর করে আর যেভাবে তাকায়
মনে হয় পুড়ে যাওয়া ঘরগুলো তাদেরই।
তারা যেন ভাবে হঠাৎ কোন কেলেঙ্কারি
ধোঁয়ায় ভরা খাসকামরা থেকে বেরোবে।
কোন মৃত্যু নয়, নয় বিস্ময়কর জখম
এই শিকারীদের পুরোনো মাংস পিণ্ড
কঠোর শোকাবহ ঘটনার রক্তরেখার
পিছনে ধাওয়া করতে পাঠিয়ে দেয়।

সবুজ কুঁচি দেয়া ঢিলা পোশাকে মিডিয়া
তার বিধ্বস্ত এপার্টমেন্টের মধ্যে ভদ্রভাবেই
এগোয় অন্য যে কোনো গৃহবধূর মতো।
হিসাব নিতে থাকে তার দগ্ধ জুতোর,
সপসপে ভেজা ঘরের আসবাবপত্র :
দহনের চিতা এবং তাকের প্রতারণার।
জড়ো হওয়া লোকজন তার শেষ অশ্রু
শুষে নিয়ে নিজনিজ কাজে ফিরে যায়।

মূল: সিলভিয়া প্ল্যাথ

আয়না

আমি রূপালী এবং একদম সঠিক।
আমার কোনো কল্পনা শক্তি নেই।
যা দেখি তা-ই গিলে ফেলি তখনই।
যেমনটা ছিল সেভাবেই, প্রেম কিংবা
ঘৃণার কুয়াশার মোড়কে পুরে নয়।
আমি নিষ্ঠুর নই, কেবল সত্যপরায়ণ।
চারকোণার ভিতরে ছোট্ট দেবতার চোখ।
রোজ আমি সামনের দেয়ালে ধ্যানে থাকি।
এটা গোলাপি রঙা, ছোট ছোট দাগওয়ালা।
আমি এত দীর্ঘ সময়
এর দিকে তাকিয়ে থেকেছি যে,
মনে হয় এটা আমার হৃদয়।
কিন্তু এটা ঝিকমিক করে।
হরেকরকম মুখ আর অন্ধকার
বারবার আমাদের আলাদা করে।

আমি এখন একটি টলটলে দীঘি।
একজন মহিলা আমার দিকে ঝুঁকে,
আমার মধ্যে কি কি আছে আর
সে আসলে কি তা খুঁজতে শুরু করে।
তারপর সে মিথ্যুকদের দিকে ফিরে তাকায়
মোমবাতি গুলোর দিকে কিংবা চাঁদের দিকে।
আমি তার দিকে ফিরে দেখি আর
সততার সাথে তাকে তা দেখাই।
আমাকে সে পুরস্কার দেয় অশ্রু ফোঁটা,
আর আশঙ্কায় কাঁপাকাঁপা হাত জোড়া।

আমি তার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তাই সে প্রতিদিন আমাকে দেখতে আসে
প্রত্যেক দিন তার মুখটা আঁধার সরিয়ে দেয়।
আমার মধ্যে সে ডুবিয়ে দিয়েছে এক কিশোরী
আর আমার মধ্যে থেকে প্রতিদিন তার সামনে
বিদঘুটে মাছের মতো ভেসে ওঠে এক বয়স্ক নারী।

মূল : সিলভিয়া প্ল্যাথ